দর্শনার্থী

দর্শনার্থী


দহগ্রাম মুক্ত এবং তিনবিঘা করিডোর হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর দেশ বিদেশ হতে কয়েক লক্ষ মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন । কিন্তু অনেকে আসতে চাইলেও সঠিক নির্দেশনার অভাবে আসতে পারেন না । আবার এসে বিভিন্ন তথ্যের অভাবেও পড়েন বিপাকে । যারা আসবেন বা আসতে চান তাদের জন্য সঠিক তথ্য দেওয়া হল ।

ঢাকা থেকে আসবেন যেভাবেঃ

ঢাকা থেকে দহগ্রামের দুরত্ব ৮১০ কিমি প্রায় । যদি নিজস্ব গারি কিংবা ভাড়ায় আসেন তাহলে সময় লাগবে প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ।

অন্যান্য পরিবহণ বাসে আসতে হলে একটু বেশি সময় লাগবে । ঢাকা থেকে সরাসরি রংপুর কিংবা লালমনিরহাট অথবা পাটগ্রামেও আসতে পারেন । সরাসরি লালমনিরহাট এবং পাটগ্রামের গাড়ি কম পাওয়া যায় । ঢাকা থেকে রংপুর এর গাড়ি অনেক আছে । এসি কিংবা নন এসি দু ধরনেরই বাস পাবেন ঢাকার শ্যামলী হতে । ট্রেনেও আসতে পারেন সরাসরি রংপুর কিংবা লালমনিরহাট পর্যন্ত । তারপর সরাসরি ট্রেন পাবেন পাটগ্রামের । তবে এতে অনেক সময় লাগে । ট্রেনে আসতে হলে হাতে দু দিন সময় নিয়ে আসতে হবে । ট্রেন বা বাস হতে রংপুরে নামলে, পাটগ্রামের বাস পাবেন সাত মাথা বাস স্ট্যান্ড হতে । অথবা ট্রেনে আসতে পারবেন ট্রেন ষ্টেশন হতে ।

ট্রেনের সঠিক শিডিউল না থাকায় ট্রেনের তথ্য আর দেওয়া হল না । বাস, সকাল ৭ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত পাবেন ২০ মিনিট পর পর । এরপর সরাসরি চলে যাবেন পাটগ্রাম । পাটগ্রামে নেমে, রিক্সা কিংবা ভ্যান নিয়ে চলে যাবেন দহগ্রাম স্ট্যান্ড । প্রায় ১০ মিনিটের রাস্তা । তারপর সেখান থেকে অটো, অটো চালিত ভ্যান, নছিমন এবং লেগুনা গাড়ি পাবেন সরাসরি দহগ্রামে যাওয়ার জন্য । ভাড়া নিতে পারেন অথবা স্বাভাবিকভাবে যেতে পারেন । তবে ভাড়া নিলে ভালো হয় যদি ৩ জনের উর্ধে থাকেন । অটো ভ্যান ভাড়া নিবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা শুধু যাওয়া । তবে স্বাভাবিকভাবে গেলে প্রতি জন ভাড়া পরবে ১৫ টাকা করে । প্রায় ১০ কিমি যেতে হবে । দুই ধারে গ্রামের অপরূপ দৃশ্য দেখতে পাবেন । পানবাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ি নামক BGB ক্যাম্প দেখতে পেলেই বুঝবেন পৌঁছে গেছি, আর মাত্র ৪০ সেকেন্ড এর রাস্তা, এর পরই পেয়ে যাবেন সেই কাঙ্খিত তিনবিঘা করিডোর । চেকপোস্টের কাছে নেমে হেঁটে দেখতে দেখতে করিডোর এর ভিতরে প্রবেশ করবেন । আপনার ইচ্ছে হলে গাড়িতেও বসে দেখতে পারেন । তবে হেঁটে না দেখলে পুরোটা বুঝবেন না । ঘুরুন মজা করুন । ভিতরের বর্ণনা সম্পর্কে জানতে করিডোর পেজে দেখতে পারেন । ছবি তোলার ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করুন, আসে পাশে দেখে নিন কোথাও “ছবি তোলা নিষেধ” কথাটি লিখা আছে কি না । অথবা আমাদের BGB সদস্যদেরও বলে নিতে পারেন । কারণ, অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ছবি তোলা নিষেধ করা হয়ে থাকে । আর যদি লেখা না থাকে তাহলে ছবি তোলার মজাটা লুফে নিন এবং আমাদের ফেসবুক পেজ এবং ব্লগে করতে পারেন শেয়ার ।

আরেকটি সাবধানতা রয়েছে । ভারতের যে রাস্তা চৌরাস্তার মোরে ক্রস করেছে সেটির দু দিকে যাবেন না । হাঁটতে হাঁটতে ২য় দরজা পার হলেই দহগ্রামের শুরু হয়ে যাবে । আবার গাড়িতে উঠে চলে যেতে পারেন দহগ্রাম ১০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতাল এবং ঘুরতে পারেন “দহগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়” সহ দহগ্রাম ইউপি । এবার সেখান থেকে চলে যেতে পারেন দহগ্রাম জিরো পয়েন্ট । জিরো পয়েন্ট যাওয়ার অল্প কিছুদূর আগে একটি BGB ক্যাম্প ও ছোট্ট বাজার রয়েছে । সেখানে গাড়ি রেখে যেতে হবে । তাই গাড়ি রেখে হেঁটে সরাসরি চলে যান জিরো পয়েন্ট । যেতে যেতে রাস্তার বাঁ পাশে একেবারে ধারে দেখতে পাবেন সীমানা পিলার । সেগুলতে ছবি তুলতে পারেন বন্ধুদের বলতে পারেন ভারত থেকে ঘুরে এলাম । যাই হোক এটা শুধুই মজা । এর পর একটি দহগ্রাম ০ কিমি লেখা একটি সরক বিভাগের মাইল স্টোন বা মাইলেজ পাবেন । অর্থাৎ এটিই বলা যেতে পারে দহগ্রাম তথা বাংলাদেশের শেষ সীমানা । ছবি তুলতে ভুলবেন না সেখানে, মজা করতে এবং স্বরনীয় করে রাখতে । সেখান থেকে শেষ সীমানা লেখা হলেও আরও সামনে কিছুদূর পর্যন্ত বাংলাদেশ রয়েছে । মাইলেজটির পরে রয়েছে একটি বাড়ি । সেটি বাংলাদেশেরই । কথা বলতে পারেন বাড়ির মালিকের সাথে, তবে বিরক্ত করবেন না । এই হল দহগ্রাম এর জার্নি ।

ঘুরলেন তো, কিন্তু বিপাকে পরতে পারেন খাবার নিয়ে । অনেকে বাইরের খাবার খুব একটা পছন্দ করেন না এবং এখানে উন্নত মানের কোন হোটেল বা রেস্তরাও নেই । তবে একেবারে যে খারাপ সেগুলো সেটাও না । মোটামুটি চা নাস্তা খাবার জন্য যথেষ্ট । তবে ভালো হয় পাটগ্রাম থেকে খেয়ে আসলে কিংবা খাবার নিয়ে আসলে । পাটগ্রামে অনেকগুলো ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে, সেগুলো হতে নিয়ে নিতে পারেন ভাত, বিরিয়ানি কিংবা যে কোন কিছু । অনেকে পানি নিয়ে চিন্তা করেন তাদের জন্য বলছি, এখানকার পানি অনেক ভালো, এখানে অন্তত এই সমস্যায় পরতে হবে না । আর যারা একেবারেই টিউবওয়েলের পানি খেতে না চান তাহলে দোকান থেকে কিনে নিতে পারেন বোতলজাত পানি ।

খাবার নিয়ে ঝামেলা তো শেষ এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে ।

দহগ্রামের মত ঐতিহ্যবাহী স্থানে আসার পাশাপাশি আরও দুটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হতে ঘুরে আসতে পারেন ।

বুড়িমারি স্থলবন্দরঃ বুড়িমারি স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান এর পণ্য আমদানি রপ্তানি করার একটা বড় স্থলবন্দর । বুড়িমারি ঘুরে আসতে পারেন সহজেই । পাটগ্রাম হতে সরাসরি যেতে পারেন দহগ্রাম এর মত পরিবহণ ব্যাবস্থার মাধ্যমেই । দূরত্বও পাটগ্রাম হতে প্রায় একই ।

তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পঃ বহুল আলোচিত তিস্তার পানি, এটা প্রায় সকলেই জানে । ইচ্ছে করলেই বেরিয়ে আসতে পারেন তিস্তা ব্যারেজ । অনেক সুন্দর একটি যায়গা এটি । এটি হাতীবান্ধা থানার ডালিয়া অঞ্চলে অবস্থিত । তবে এখানে যেতে হলে দুটি পথের মাধ্যমে যাওয়া যায় । একটি হচ্ছে রংপুর হতে সরাসরি হাতীবান্ধার বড়খাতা দিয়ে । এবং রংপুর থেকে জলঢাকা হয়ে পাটগ্রাম মুখী গাড়ির মাধ্যমে । ভালো হয় দহগ্রাম আসার সময় সেখান থেকে ঘুরে আসলে ।

আরও বিস্তারিত বা যে কোন কিছু জানতে চাইলে অ্যাডমিনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা অ্যাডমিন প্যানেল হতে ইমেইলও করতে পারেন । এছাড়াও আমাদের সাথে বা সবার কোনকিছু শেয়ার করতে পারেন আমাদের ব্লগ এ যোগ দিয়ে এবং ফেসবুক পেজ এ লইক ও মেসেজ দিয়ে ।